শিরোনাম :
কৃষিভিত্তিক কলকারখানা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী শাবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিসিক এর উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ উদযাপন সিলেটে আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটে বর্ণিল সাজ বৈশাখী শোভাযাত্রা সিলেটে বর্ষবরণের নানা আয়োজন, চলছে প্রস্তুতি অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা, সিলেট সীমান্তে রোহিঙ্গা নাগ‌রিকসহ আটক ৪ গোয়াইনঘাটে সাবমারসিবল সড়কের উদ্বোধনে মন্ত্রী আরিফুল হক সিলেটসহ সারা দেশে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে বিশিষ্টজনদের সাথে ভারতের মনিপাল হাসপাতালের মতবিনিময়

সিলেটের বিবিয়ানায় গ্যাসের সঙ্গে উঠছে বালু, উৎপাদন বন্ধ

রিপোর্টার নামঃ
  • সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ২১৭ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ছয়টি কূপ থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। রোববার (৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে হঠাৎ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়।

রোববার ছিলো পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। চুলায় গ্যাস না পাওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইফতারি তৈরি করতে পারেনি অনেকে। আবার কোনো কোনো এলাকায় ছিল না বিদ্যুৎ।

 

কূপ থেকে তোলার পর প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পাইপলাইনে বিশুদ্ধ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আর গ্যাসের সঙ্গে আসা নানা উপজাত আলাদা করে ফেলা হয়। পেট্রোবাংলা ও শেভরন সূত্র বলছে, দুপুরে হঠাৎ সিলেট বিভাগরে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে বালু উঠে আসে। কোন কূপ থেকে উঠছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তাই জরুরি ভিত্তিতে ছয়টি কূপের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শেভরন বাংলাদেশের মুখপাত্র শেখ জাহিদুর রহমান রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের দুটি ইউনিটে বেলা সোয়া একটা থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে গ্যাসের উৎপাদন কমে গেছে। পুরোপুরি উৎপাদনে ফেরানোর কাজ চলছে। কখন আবার উৎপাদন শুরু হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিবিয়ানা বর্তমানে সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র। হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে গ্যাসের সরবরাহ কমতে থাকে। ঢাকার গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রে দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভোক্তারা অভিযোগ জানাতে থাকেন। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মগবাজার, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান থেকে বারবার ফোন করেন গ্রাহকেরা।

সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদনের জন্য গ্যাসের যে পরিমাণ চাপ দরকার হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ পাওয়া গেছে। এটা দিয়ে বেশির ভাগ কারখানায় উৎপাদন সম্ভব হয় না।

দেশে দিনে ৩৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও শনিবার মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২৭৯ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে বিবিয়ানা থেকে সরবরাহ করা হয় ১১৫ কোটি ঘনফুট। রোববার দুপুরের পর থেকে বিবিয়ানায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে যায়। এতে বাসার চুলায়, শিল্পকারখানায় ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ কমতে থাকে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সরবরাহ কমায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কিছুটা কমানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। ময়মনসিংহসহ কিছু এলাকায় লোডশেড হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে দুঃখপ্রকাশ করে রোববার দুই দফা বিবৃতি দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় বলা হয়, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সৃষ্টি হতে পারে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় দফা বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain