শিরোনাম :
লামাকাজীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঔষধি গাছ রোপনের বিকল্প নেই-অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক সিলেটে বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত-আবহাওয়া অফিসের সর্তকতা বিশ্বায়নের যুগে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত সিলেট নগরীতে তিনঘণ্টার বৃষ্টিতে ফের জলাবদ্ধতা এমসি কলেজে তাহিরপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন হবিগঞ্জে অটোরিকশাকে ট্রেনের ধাক্কা, নারী নিহত সিলেটে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন সিলেটে সংবাদ সম্মেলন-জন্মবধির ও মারাত্মক বধিরদের চিকিৎসায় আলোকবর্তিকা ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট’

ঈদের ছুটিতে মাধবকুন্ডে পর্যটকদের ঢল

রিপোর্টার নামঃ
  • বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: করোনার বিধিনিষেধের কারণে গেল দুই বছর ঈদের ছুটিতে প্রকৃতি কন্যা মাধবকুন্ডে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল অনেকটাই কম। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, ইজারাদার ও এর সাথে জড়িত সকলের দুর্দিন গেছে। তবে এ চিত্র পাল্টেছে এবারের ঈদে। কার্যত বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে এখন পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়।

ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ইজারাদারসহ সকলের মুখে হাসি ফিরেছে। ঈদের দিন মঙ্গলবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে প্রায় নয় থেকে দশ হাজার পর্যটক প্রবেশ করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের দিন মঙ্গলবার মাধবকুন্ডে বেড়াতে আসা বেশির ভাগই বড়লেখা ও আশপাশের উপজেলার। ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকারও দর্শনার্থী ছিলেন। তবে বুধ ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোকজন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা বেড়াতে আসেন।

 

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে মাধবকুন্ড ইকোপার্কে প্রবেশের আগে সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার যানজটের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে যানজট নিরসনে কাজ করছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। মাধবকুন্ড ইকোপার্ক এলাকায় পৌঁছার পর বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিভিন্ন পণ্যের দোকান, খাবার হোটেলগুলোতেও ভিড় ছিল বেশি। জলপ্রপাত এলাকায় প্রবেশের পর দেখা গেছে মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দল বেধে মাধবকুন্ডের জলে নেমে হইহুল্লোড় আর আনন্দ-উল্লাসে মেতেছিল নানা বয়সী মানুষ। কেউ কেউ ঝরনার জলে সাঁতার কাটছিলেন। আবার অনেকে পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রায় ২০০ ফুট ওপর থেকে অবিরাম ঝরনার জলপতনের দৃশ্য ও আশপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করছিলেন। স্মৃতি হিসেবে ধরতে রাখতে এসব দৃশ্য তারা ক্যামেরা বন্দি করছিলেন।

স্বজনদের নিয়ে আসেন বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা তরুণ কবি শাহরিয়ার শাকিব। তিনি বলেন, ‘মাধবকুন্ড আমাদের ইউনিয়নেই। তবে সব সময় আসা হয় না। ঈদ উপলক্ষে আসা। অনেক ভালো লাগছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসেছেন। সবাই আনন্দ করছে। আমাদের ভালো লাগছে। বর্ষার সময়। প্রকৃতিতে সবুজ ফিরেছে। তাই জলপ্রপাত ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য, খাসিয়া পুঞ্জি এবং চা বাগান মানুষকে আকৃষ্ট করছে বেশি।’

মাধবকুন্ড বেড়াতে আসা তরুণ ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ বলেন, ‘ঈদে অবসর থাকায় ঘুরতে এসেছি। ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের জন্য এখানকার ব্যবস্থাপনাটা আরও ভালো করার দরকার। তাহলে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে।’

আলোকচিত্রী মো. রহিম উদ্দিন বলেন, ‘করোনার সময় দুই বছর ঈদের সময় মাধবকুন্ড বন্ধ থাকায় খুব কষ্ট হয়েছিল। এবারের ঈদে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। তাই লোকজন আসছেন। এরকম লোকজন আসা অব্যাহত থাকলে আমরা ছবি তুলে রোজগার করতে পারব।’

ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছরের ঈদে লোকজন ছিলেন না। আমাদের ব্যবসায় মন্দা ছিল। এরপর বিধিনিষেধ উঠলে মাধবকুন্ড খুলে দেওয়া হয়। পর্যটকও আসেন। কিছুটা স্বস্তি ফিরে আমাদের মাঝে। এবার ঈদের দিন থেকে অনেক লোকজন আসছেন। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। গত দুই বছরে ঈদে বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছিল, আশা করছি কিছুটা পুষিয়ে উঠতে পারব।’

মাধবকুন্ডে ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সামনের দিনগুলোতেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর রয়েছে। এছাড়া আমরা মাধবকুন্ডে ভ্রমণে আসা কিশোরদের মাদক সেবন, ইভটিজিং ও অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করেছি।’

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বৃহস্পতিবার (৫ মে) বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আনুমানিক নয় থেকে দশ হাজারের মতো পর্যটক মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এলাকায় প্রবেশ করেছেন। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ছাড়াও বনবিভাগ এবং ইজারাদারের লোকজন কাজ করছেন।’

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain