সিলেটে শেষ সময়ে জমেছে পশুর হাট

রিপোর্টার নামঃ
  • শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান নিউজ :: সিলেটে এবারের কুরবানির হাটে গরুর দাম আকাশচুম্বী থাকলেও ক্রেতা কম থাকায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে দাম। শনিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যার পর সিলেট নগরীর প্রধান পশুর হাট কাজিরবাজারসহ অস্থায়ী বাজারগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পাল্টে দিয়েছে সিলেটে কুরবানির পশুর হাটের চিত্র। পবিত্র ঈদুল আযহার আগের দিনও (শনিবার দিনের বেলা) পুরোদমে জমে উঠতে পারেনি পশুর হাট। শনিবার বিকেল পর্যন্তও সিলেটের বিভিন্ন হাটে পশু বিক্রেতার চাইতে ক্রেতা কম দেখা যায়। তবে রাতে বেচাকেনা বাড়তে পারে মনে করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারনাকে সত্যি করে সন্ধ্যার পর থেকে অনেকটা জমে উঠেছে বাজার। পাশাপাশি দামও কম হাঁকছেন বিক্রেতারা।

 

শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর প্রধান পশুর হাট কাজিরবাজার ঘুরে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকালে এ বাজার কিছুটা ক্রেতামুখর হলেও শনিবার দিনের বেলা তেমন ক্রেতা নেই। দিনের বেলা ওই বাজারে গরুর দামও বেশি হাঁকেন বিক্রেতারা।

 

পশুর হাটটি ঘুরে দেখা গেছে, এবার বন্যার কারণে বাইরের জেলা থেকে বেপারিরা তেমন গরু নিয়ে আসেননি। আর সীমান্ত ঘেষা সিলেটে ভারত থেকেও গরু নামেনি এবার। ফলে বাজার চলছে দেশি ও খামারিদের গরুর ওপর ভর করে।

বাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাজিরবাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য ছিলো। গতকাল (শুক্রবার) একটু ক্রেতাসমাগম হয়েছে। তবে শনিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ফের বাজারে ক্রেতা কম। মাঝারি থেকে শুরু করে বড় গরু দেখা গেলেও বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন বেশি। রাতে বাজার জমে উঠার আশা করেন তারা। পশু কেনা-বেচা চলবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত।

 

অপরদিকে সিলেট নগরীর ৬টিসহ জেলায় সর্বমোট ৪৬টি স্থায়ী-অস্থায়ী হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। একটা সময় অস্থায়ী বৈধ হাটের পাশাপাশি পুরো শহর অবৈধ হাটে রূপ নিতো। এবার সেই দৃশ্য খুবই কম। বৈধ হাটগুলোতেই কম গরুর সংখ্যা।

গরু বিক্রেতা মাসুক আহমদ এ প্রতিবেদককে বলেন, বাজারে তিনি ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। ২টি গরু বিক্রি করেছেন। একটি ১ লাখ ও অন্যটি ৯০ হাজার।

তিনি বলেন, ক্রেতা কম। কিন্তু গরুগুলোতো বিক্রি করতে হবে।

কাজিরবাজারের মতো অবস্থা সিলেটের ৬টি অস্থায়ী পশুর হাটেও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- বন্যার কারণে এবার ক্রেতা কম। সে হিসেবে কোরবানির পশুর দাম কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশি ও ফার্মের গরুর বাইরে অন্যান্য অঞ্চল থেকে তেমন গরু আসেনি। আর ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে গরু আসতো সিলেটের বাজারগুলোতে। এবার ভারতের গরু নেই। বড় গরু বলতে ফার্মের। তাই দাম বেশি। বাজারে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন জানান, তার প্রবাসী ভাই প্রতিবছর তিনটি গরু কোরবানি দিতেন। এবার বন্যায় প্রচুর টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এর জন্য এবার দুটি গরু কোরবানি দিতে চেয়েছিলেন। তবে গরু কিনতে এসে দেখছেন- দাম খুব বেশি। তাই শেষ পর্যন্ত একটি গরু কুরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই তিনি কাজিরবাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে একটি গরু কিনেছেন।

 

এদিকে, পশুর হাটের নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, কোরবানির হাটের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain