বড়লেখা প্রতিনিধি-সাদিকুর রহমান সোহেল :: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে কোনো ধরনের টালবাহানা তাঁরা মেনে নেবেন না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন, বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ফয়সাল আহমদ সাগর, প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ এবং রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তাঁর বাবা মকবুল আলী ও মা রেনু বেগম, ভাই মাছুম আহমদ।প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মুন্নির বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তাঁর বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। মেয়ের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে তাঁর বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান। পরে একজন মুরব্বি তাঁকে ফোন করে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের সদস্যকে হারানোর পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তারও নিরসন প্রয়োজন। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তাঁরা।