অনুসন্ধান ডেস্ক ::: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন সংস্কার কাজের টেন্ডার পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার রোষানলে পড়ে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সিলেটের ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আবু আহমেদ আনছারী। সর্বশেষ হামলায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী রোবনা বেগম। এ সময় তাঁর সন্তানকেও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
টেন্ডার পাওয়ার পরই ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দাবির অভিযোগ
ভুক্তভোগী আবু আহমেদ আনছারীর ভাষ্য, তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আফফান এন্টারপ্রাইজ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে। সেপ্টেম্বর মাসে সিলেটের আম্বরখানা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ড্রেন সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে কাজ পাওয়ার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেতা ও সিলটেক এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ইমরান আহমদ চৌধুরী তাঁর কাছে কাজের ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন আবু আহমেদ আনছারী।
তিনি বলেন, ইমরান আহমদ চৌধুরী তাঁকে জানিয়েছিলেন, ‘এই কাজ আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ করতে পারবে না।’ কিন্তু অংশীদারিত্ব দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর নির্যাতন ও হামলা শুরু হয় বলে দাবি তাঁর।
১০ অক্টোবর অফিসে হামলার অভিযোগ
আবু আহমেদ আনছারী জানান, গত ১০ অক্টোবর তাঁর অফিসে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার পরও তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত কালকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজিবি ক্যাম্পের সামনে গাড়িতে হামলা
আবু আহমেদ আনছারীর বর্ণনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী রোবনা বেগম ও ছেলে আহনাফকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আখালিয়া বর্ডার গার্ড ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়ান।
তিনি বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাঁরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার পরিণতি ভালো করে বুঝ।’
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর ছেলেকে তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে তিনি দৌড়ে সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে বিজিবি সদরদপ্তরের গেটে প্রবেশ করেন।
এ সময় তাঁর স্ত্রী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন এবং হামলায় গুরুতর আহত হন বলে জানান তিনি। পরে আশপাশের লোকজন উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
গাড়ির কাচের টুকরোয় আহত স্ত্রী, হাসপাতালে ভর্তি
আবু আহমেদ আনছারী বলেন, বিজিবি সদরদপ্তরের গেটের ভেতর থেকে বের হয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পাশের একটি হাসপাতালে যান তিনি। গাড়ির কাচ ভেঙে যাওয়ায় কাচের টুকরো তাঁর স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঢুকে পড়ে। পরে চিকিৎসক তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। টেন্ডার পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
আবু আহমেদ আনছারী অভিযোগ করেন, ইমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট জেলা বিএনপির একজন সক্রিয় নেতা কিন্তু তার এক আত্নীয় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ায় সে সুবাদে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন।
এই ঘটনার বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামানের মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টার করলে রিসিভ করেন নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন আবু আহমেদ আনছারী।