অনুসন্ধান ডেস্ক ::: মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় জাকির হোসেন নামের এক দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছুফুয়া বাবুর্চি বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মৌলভী চা-বাগানের বাংলো টিলার ঢালে এ ঘটনা ঘটে। পরে নিহতের স্ত্রী আনজিলা বেগম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহত জাকির সুনামগঞ্জ জেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারা হলেন— মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভী চা-বাগানের পাথরটিলা লাইনের লক্ষ্মীনারায়ণ রবিদাসের ছেলে আকাশ রবি দাশ (২০) ও একই উপজেলার নিতেশ্বর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে স্বাধীন আহমেদ (২০)।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তে ভিকটিমের পরিবারের দেওয়া তথ্য, পুলিশের গোপন সোর্স এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আকাশ এবং স্বাধীন নামের দুই যুবককে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে গত বুধবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তারদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ মিটার দূর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা এবং আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি জব্দ করা হয়।’
তিনি জানান, ভুক্তভোগী জাকির বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে ইট, বালু ও মাটি তোলাসহ দিনমজুরের কাজ করতেন।
অপরদিকে আসামি স্বাধীন গাড়িতে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে জাকিরের সঙ্গে পরিচয় হয় স্বাধীনের। এরই মাঝে তাদের মধ্যে সমকামী সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে স্বাধীন তার বন্ধু রবি দাশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় জাকিরকে। তারা তিনজন বিভিন্ন সময় একসঙ্গে আড্ডা দিত।
এক সময় স্বাধীনের সঙ্গে জাকিরের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি আকাশ নামের অপর একজনকে জানায় স্বাধীন।
পরে টিকটক করার জন্য মোবাইল কিনতে চায় আকাশ। তবে তার কাছে টাকা ছিল না। ওই সময় স্বাধীনের কাছেও টাকা না থাকায় তারা জাকিরকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল, জাকিরকে হত্যা করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও বিকাশে থাকা টাকা নিয়ে তারা কুমিল্লায় পালিয়ে যাবে। পরে গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ১০টার দিকে জাকিরকে ঘটনাস্থলে নিয়ে দাঁড়ালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা, আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি, নগদ ৭৬০ টাকা, ভুক্তভোগীর বিকাশ থেকে ক্যাশ আউট করা টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেল আবুল খয়ের, সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ও ডিবির ওসি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য।