অনুসন্ধান ডেস্ক ::: সিলেট জেলার ৬টি আসনে বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৩৯ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসেবে বিত্তশালী। সকল আসনেই রয়েছে কোটিপতি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। অনেক প্রার্থীর স্ত্রীরও রয়েছে সম্পদের পাহাড়। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় বিশ্লেষনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী সিলেটের ৬টি আসনের ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের রয়েছে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে কোটি টাকার উপরে সম্পদ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ সিলেট-৬ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের। তার সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের স্ত্রীও কোটি টাকার উপরে সম্পদের মালিক।
সিলেট-১ আসনে সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। আর তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৩ টাকা।
সম্পদের দিক দিয়ে মুক্তাদিরের পরেই রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। তার নামে ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকা ও স্ত্রীর ২ কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৭ টাকার সম্পদ রয়েছে।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা। আর জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা।
এছাড়া কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল- মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাস, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের।
সিলেট-২ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন কোটিপতি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (ইলিয়াসপত্মী)। তার সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকার।
এছাড়া কোটিপতি সম্পদশালীদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা, জামায়াতের আব্দুল হান্নানের ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকা ও জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর রয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে গণফোরামের মুজিবুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকীর।
সিলেট-৩ আসরে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুর। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা।
জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫২৫ টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিএনপির মো. আবদুল মালিকের চেয়ে তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আবদুল মালিকের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে দেড় কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
আর জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। এছাড়া কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে এনসিপির নুরুল হুদা জুনেদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরীর।
সিলেট-৪ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকা ও তার স্ত্রীর ৮ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এনসিপির মো. রাশেদ উল আলমের ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ টাকা ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৬ টাকার সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের মুফতি আলী হাসান উসামার সম্পদ কোটি টাকার নিচে। আর জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলামের হলফনামার সম্পদের হিসাব অংশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।
সিলেট-৫ আসনের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি দুইজন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদের ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকা ও জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের ১ কোটি ২২ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে জামায়াতের হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান, খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান, মুসলিমলীগের মো. বিল্লাল উদ্দিনের।
সিলেট-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুন নূরের সম্পদ কোটি টাকার নিচে। বাকি ৪ প্রার্থীর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা।
বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা ও একই দলের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪ টাকা। সূত্র-সিলেটভিউ