গোয়াইনঘাট ::: সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় আবারও এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০ জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বদ্ধ পানিতে ডুবে জিহাদ (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহত জিহাদ নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার পুটিয়া, শ্যামপুর গ্রামের জুয়েল মিয়ার ছেলে। দাদীর সঙ্গে ঘুরতে এসে অসাবধানতাবশত পানিতে নেমে ডুবে যায় সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের চলমান সময় পর্যন্ত জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় পর্যটক ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চট্টগ্রামের মো. মাহিম (১৬) সুনামগঞ্জের নয়ন মিয়া (১৩) ময়মনসিংহের জাওয়াত আহমেদ (২৫) সিলেটের গোলাপগঞ্জের আবু সুফিয়ান (২৬) সুনামগঞ্জের মুকিত আহমদ। প্রায় সব ঘটনাই ঘটেছে নদী বা সংলগ্ন পানিতে গোসল করতে গিয়ে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা সাইনবোর্ড, হ্যান্ড মাইক দ্বারা সতর্কীকরণ এবং নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বাগেরহাট থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রবিউল হাসান সাগর বলেন, এখানে যে সাইনবোর্ড ও মাইকিং করা হয়, তা পর্যটকের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে, সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। বৃহত্তর জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতি সাবেক সাধারন সম্পাদক সেলিম আহমেদ বলেন,
ঈদ ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এখানে প্রতিদিন লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। সে তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। প্রতিটি পর্যটকের জন্য গাইড বাধ্যতামূলক করা এবং পানিতে নামার আগে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি একটি স্থায়ী তথ্যকেন্দ্র স্থাপন সময়ের দাবি।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় শতাধিক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। স্বচ্ছ পানি ও পাথরের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই ঝুঁকি না বুঝে পানিতে নেমে পড়েন। সাঁতার না জানা ও অসতর্কতার কারণেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাফলংয়ে পর্যটক মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করছে-স্বচ্ছ পানির আকর্ষণে হঠাৎ পানিতে নেমে পড়া সাঁতার না জানা, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার না করা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত দৃশ্যমান সাইনবোর্ডের অভাব পর্যটকের তুলনায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি শিশু ও পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব। জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এছাড়া স্থানীয়দের মতে, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা খুব কমই মানা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে জরুরি ভিত্তিতে-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আরও দৃশ্যমান ও পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড স্থাপন, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ এবং পর্যটকদের জন্য তথ্যকেন্দ্র স্থাপন গাইড সিস্টেম চালু করা মাইকিং ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলংয়ে বারবার এমন প্রাণহানি পর্যটন ব্যবস্থাপনার বড় একটি দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, টুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, আনসার ও স্কাউট সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। মাইকিং ও নৌকায় লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পর্যটকরা অনেক সময় অসতর্ক হয়ে পানিতে নামেন। ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নে