অনুসন্ধান ডেস্ক ::: স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত ব্যয়, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার সকালে সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ৬ শতাংশ। অতীতে এ হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে এই সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না। পরিকল্পনার দুর্বলতা, জনবল সংকট এবং প্রয়োজন নির্ধারণ ছাড়াই অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেক হাসপাতাল ও ভবন পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় জরুরি ভিত্তিতে জনবল প্রয়োজন এবং কোথায় আদর্শ জনবল কাঠামো গড়ে তুলতে হবে—এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি প্রতি দুই মাস অন্তর পর্যালোচনা সভা আয়োজন এবং সভার আগে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শনের প্রস্তাব দেন, যাতে অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা বাস্তবভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষতা, সমন্বয় ও সুশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
পর্যালোচনা সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মনির প্রমুখ অংশ নেন।