অনুসন্ধান ডেস্ক ::: আসন্ন ছাত্রদলের কমিটিকে ঘিরে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন ছাত্রনেতা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তাফিজ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই মুস্তাফিজ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১৩ সালে ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই ২০১৩-১৪ সালের আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের আন্দোলন ও নির্বাচন, ২০২৩-২৪ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট আন্দোলন-সংগ্রামে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি ও নেতৃত্বগুণ তাকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
বিশেষ করে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার তিনি কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় মাথায় স্প্লিন্টার লাগার কারণে এখনও তিনি শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সংগঠনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি; বরং আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (EEE) প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
সহকর্মী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মতে, মোস্তাফিজ একজন শিক্ষিত, বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী ব্যক্তি। তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা—এই তিনটি দিক মোস্তাফিজকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় আলাদা করেছে। ফলে আসন্ন ছাত্রদলের কমিটিতে তিনি যোগ্য মূল্যায়নের দাবিদার।
সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন একটাই প্রশ্ন—রাজপথের পরীক্ষিত এই ছাত্রনেতা কি শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছাতে পারবেন?
সংশ্লিষ্টদের আশা, দলীয় নেতৃত্ব আসন্ন কমিটিতে যোগ্যতা, ত্যাগ ও নেতৃত্বগুণের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।