শিরোনাম :
তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা রক্তের সংকটে প্রসূতির পাশে ইউএনও, নিজেই দিলেন রক্ত গোয়াইনঘাটে মানবিকতার দৃষ্টান্ত গভীর রাতে জাফলংয়ে অভিযান, ১০ নৌকা ধ্বংস ও বালু জব্দ টাঙ্গুয়ার হাওরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পর্যটকের মৃত্যু ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিলেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গোয়াইনঘাটে মানববন্ধন শরীয়াহ বিরোধী রায় বাতিলের দাবিতে সিলেটে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল প্রাথমিক শিক্ষায় বেসরকারি স্কুলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে–এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেটে পৃথক অভিযানে ‘ডাকাত’ ও ‘ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তার সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লিমিটেডের মহিলা উপ-পরিষদ-এর অভিষেক সম্পন্ন

রক্তের সংকটে প্রসূতির পাশে ইউএনও, নিজেই দিলেন রক্ত গোয়াইনঘাটে মানবিকতার দৃষ্টান্ত

রিপোর্টার নামঃ
  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গোয়াইনঘাট ::: প্রথম সন্তান জন্মের অপেক্ষায় থাকা তানজিনা বেগমের পরিবারে যখন আনন্দের প্রস্তুতি, তখনই নেমে আসে উৎকণ্ঠা। প্রসবের সময় জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলেও কাঙ্ক্ষিত গ্রুপের রক্ত মিলছিল না। এমন সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী। হাসপাতালে গিয়ে নিজ শরীরের রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু প্রসূতির পাশে দাঁড়ান তিনি।

রোববার সকালে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনি গ্রামের তানজিনা বেগমকে প্রসববেদনা নিয়ে গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তানের জীবন রক্ষায় দ্রুত রক্ত প্রয়োজন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে রক্তের সন্ধান করেও তাৎক্ষণিকভাবে কাঙ্ক্ষিত গ্রুপের রক্ত পাচ্ছিলেন না।

এ অবস্থায় বিষয়টি ইউএনও রতন কুমার অধিকারীর নজরে আসে। রোববার সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে নিজেই রক্ত দেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত থাকায় প্রসূতি ও নবজাতককে নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগ কিছুটা কমে আসে।

তানজিনার মা জুলেখা বেগম বলেন, ডাক্তার জরুরি রক্তের কথা বলার পর আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। কোথাও রক্ত পাচ্ছিলাম না। ইউএনও স্যার এসে নিজের রক্ত দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।

গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক শায়লা ইসলাম স্বর্ণা বলেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। ওই সময় রক্ত না পেলে প্রসূতি ও নবজাতক দুজনেরই ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। ইউএনও দ্রুত হাসপাতালে এসে রক্ত দেওয়ায় তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি আমরা প্রত্যেকেই মানুষ। একজন মুমূর্ষু মা ও তার অনাগত সন্তানের সংকটের কথা শুনে স্থির থাকতে পারিনি। দাপ্তরিক কাজের চেয়ে তখন একটি জীবন বাঁচানোই আমার কাছে বড় দায়িত্ব মনে হয়েছে। নাগরিক সেবা ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে নিজে রক্ত দিয়ে প্রসূতির পাশে দাঁড়ানোর এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে প্রশংসা পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমাতে এমন মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain