শিরোনাম :
নিবন্ধনের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-কিছু শর্ত  সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদ পর্তুগাল শাখার মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত গোয়াইনঘাটে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘পুসাগ গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬’ উদ্বোধিত গোয়াইনঘাটে মাধ্যমিক স্কুল ভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশি নিহত, আছেন ‘সুনামগঞ্জের কয়েকজন’ সিলেটে ট্রিপল মার্ডার : পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে উচ্চতর তদন্তের দাবি জানাবেন সাত্তার-সুরাইয়ার সন্তানরা মাথিউড়া চা বাগানে গাছে ঝুলছিল যুবক-যুবতীর মরদেহ সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, বাবুল চার দিনের রিমাণ্ড সিলেটে বিজিবির বিশেষ অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ ট্রিপল মার্ডার: রায়নগরের সেই বাসায় বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিতের নির্দেশ

ময়লার স্তূপ থেকে প্রাণ ফিরছে নগরের আরেকটি পুকুরে

রিপোর্টার নামঃ
  • রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক ::: আজ কচুরিপানা, কাল ময়লার স্তূপ, পরশু মাটি ভরাট ভাবেই ধীরে ধীরে একটি জলাশয়, পুকুর বা দিঘির মৃত্যু ঘটে। অথচ এই জলাশয়, পুকুর ও খালগুলো কেবল পানির আধার নয়, এগুলো একটি শহরের প্রাণ।

দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত, আবর্জনাময় ও কচুরিপানায় ঢাকা এক বিশাল জলাশয়কে তার হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে মাঠে নেমেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। রোববার সকালে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে এই পরিচ্ছন্নতা ও জলাশয় উদ্ধার অভিযান।

প্রায় ২০০ শতক জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। চারপাশ আগাছা, ময়লা-আবর্জনা আর কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের নান্দনিক এই জলাশয়টি এখন এলাকার পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা; পরিণত হয়েছে মশার নিরাপদ আবাসেও। অথচ একসময় শীত এলেই এই পুকুরে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর হয়ে উঠত চারপাশ। পরিবেশ দূষণের কারণে আজ সেই চিরচেনা রূপ হারিয়ে গেছে।

নগরীর পরিত্যক্ত সব জলাশয় উদ্ধার করে সেগুলোকে পরিবেশবান্ধব করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন সিসিক প্রশাসক। এই ঐকান্তিক ইচ্ছার অংশ হিসেবেই ঘাসিটুলা সংলগ্ন বিশাল এই জলাশয় উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। রোববার সকালে উদ্ধার কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, “একসময় নগরীতে প্রচুর দিঘি, পুকুর ও জলাশয় ছিল, যা মানুষের উপকারে আসার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করত। আমরা চাই জলাশয়গুলো যথাসম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। কদিন আগেও আমরা আরেকটি পুকুর উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি।”

উদ্ধারকৃত ঘাসিটুলা পুকুরটিকে ঘিরে এলাকাবাসীর জন্য সুন্দর একটি বিনোদন ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিসিক। প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, পুকুরটি উদ্ধারের পর এর চারপাশে ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা রেলিং স্থাপন করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে নগরবাসী পুকুরপাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন, নির্মল বাতাস উপভোগ করতে পারবেন এবং শীতকালে আবারও ফিরে আসবে অতিথি পাখির দল।

পুকুরটি কেবল সরকারি উদ্যোগে রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক স্থানীয় জনগণের প্রতি এটি সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজের বাড়ির মতো করে এই পুকুরের যত্ন নিতে হবে এবং কেউ যেন পুনরায় এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জলাশয় রক্ষা কেবল সরকারের নয়, প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।

উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সিলেট -এর আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগরী নিশ্চিত করতে সিসিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain