বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক মো. নজরুল ইসলাম।
রোববার (২৩ আগস্ট) বড়লেখা থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি মো. আনোয়ার হোসেন (২৫), পিতা—গৌস উদ্দিন, সাং—বর্ণি মনারাই এবং হিফজুর রহমান (২৭), পিতা—মৃত মনজ্জীর আলী, সাং—হাটবন্দ, উভয় বড়লেখা, মৌলভীবাজারকে অভিযুক্ত করেন।
অভিযোগে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি বড়লেখা সরকারি হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করেন। রোগী পরিবহনের সময় জ্বালানি বা গ্যাস খরচ বাবদ রোগীর স্বজনরা কখনো কখনো অগ্রিম টাকা দিয়ে থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীর ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার জন্য ১ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নজরুল ইসলামের দাবি, আনোয়ার হোসেন যে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলছেন, সেটি তার নয়। এরপরও আনোয়ার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে টাকা আত্মসাৎকারী হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচার চালাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হিফজুর রহমান আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন বক্তব্য ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। একইসঙ্গে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এতে তার সামাজিক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আশায় এক হাজার টাকা দিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে এরপরও তার বক্তব্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি জানতে পারেন।
এ ঘটনায় এক হাজার টাকা লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা যাচাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট ও ভিডিও পর্যালোচনা এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন সাংবাদিক নজরুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।