শিরোনাম :
তিন মাসের মধ্যে চালু হবে সিলেটের ২৫০ শয্যার সেই হাসপাতাল-স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম বাবুল ফ্রান্স প্রবাসী ও যুবদল নেতা আলী আহসান আফতাব স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিমানবন্দরে এক জমকালো সংবর্ধনা বড়লেখায় মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য উদ্‌ঘাটন-’বিচারের দাবিতে মানববন্ধন সাত দিনের মধ্যে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধান হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার সিলেট আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যাবেন ওসমানী হাসপাতালে নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ সিলেট জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে সিলেটস্থ শান্তিগঞ্জ সমিতি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপনে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে: পুলিশ কমিশনার

তিন মাসের মধ্যে চালু হবে সিলেটের ২৫০ শয্যার সেই হাসপাতাল-স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত

রিপোর্টার নামঃ
  • শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক :::  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সিলেটে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্নিচার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার সিলেটে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদ সৃজনের কাজও এগিয়ে চলছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

হাসপাতালে চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি আনসার ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও রোগী পরস্পরের প্রতিপক্ষ নন; উভয়ের সহযোগিতার মাধ্যমেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সিলেটে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান ও বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে তিনটি প্রধান প্রকল্প চালুর কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল এবং ৪৫০ শয্যা বিশিষ্ট অসম্পূর্ণ থাকা ক্যান্সার ইনস্টিটিউটটি দ্রুত প্রস্তুত করে চালু করা হবে। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া পূর্বে ঘোষিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি চালুর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও বিসিকের নানা উদ্যোগের সাথে সাথে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলো চালু হলে পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক বিরাট ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন ।

প্রসঙ্গত, নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন এই হাসপাতাল। নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও এতোদিন এটি চালু করা যায়নি। প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো এ হাসপাতাল। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জায়গার ওপর এই জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain