শিরোনাম :
সিলেট জেলা ও মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের র‌্যালী সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটের অসমাপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাত বছর পর ইতালি থেকে ফিরছিলেন দেশে, মাঝপথেই প্রাণ গেলো বড়লেখার ফখরুলের সিলেটে হাসপাতালে জনতার হাতে ২ নারী আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড গোয়াইনঘাটে ভারতীয় মদসহ আটক ১ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে গেল শিক্ষার্থীরা, এবার নতুন ৬ দাবি ২ মাসেই উঠে গেল ৮৭ লাখ টাকার সড়ক, গোয়াইনঘাটে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ কয়েস লোদীকে নাগরিক সংবর্ধনা শুক্রবার সিলেটে জামায়াত সমর্থিত ১৭ এডিশনাল পিপি-জিপি ও এপিপির পদত্যাগ এমসি কলেজে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বিপ্লবী হাদির জানাজা সম্পন্ন

রিপোর্টার নামঃ
  • শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক :::জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে।

 

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জানাজায় ইমামতি করেন ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসমান হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ শেষ বিদায় জানাতে ছুটে আসেন। সকাল সাড়ে ১০টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতাকে আর্চওয়ে গেট দিয়ে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। দুপুর গড়াতেই মানুষের স্রোত দক্ষিণ প্লাজা ছাড়িয়ে খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। উপস্থিত জনতার মতে, এটি ছিল নিকট অতীতে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহৎ জানাজা।

জানাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানাজার আগে এক সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, ‘ওসমান হাদি আমাদের ও বাংলাদেশিদের বুকের ভেতর আছেন এবং বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি সবার হৃদয়ে থাকবেন।’

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর ও পল্টন এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।

শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের বিশাল মিছিলসহ মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ নিশ্চিত করেছেন, জানাজা শেষে পরিবারের ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।

ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার দেশব্যাপী একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain