নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার ::: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কামরান আহমেদের মালিকানাধীন ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে জুবায়ের হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শিশু শ্রমিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর পর এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জুবায়ের হোসেন বড়লেখা সুজাউল এলাকার মৃত হাছিব উদ্দিনের ছেলে। অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ায় পুরো সংসারের বোঝা কাঁধে তুলে নিয়েছিল কিশোর জুবায়ের। সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিল এবং তার দুই ছোট ভাইয়ের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। ঘটনার প্রায় ১৬ দিন আগে সে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কামরান আহমেদের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজে যোগ দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, দোকানে কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে কামরান আহমেদের নিজ ভবনের (যাহা স্থানীয়ভাবে ‘ভুবনের ছাদ’ বা তিনতলা ভবন হিসেবে পরিচিত) তৃতীয় তলার ছাদে নিয়ে দেয়ালে পানি দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছিল। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি তিনতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও, পরবর্তীতে আইনি প্রতিকার বা অভিযোগ দায়ের করার জন্য থানায় ও বিভিন্ন মহলে বারবার চেষ্টা করেন। কিন্তু অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে তারা মূল অভিযোগটি নথিবদ্ধ করতে বা আইনি পদক্ষেপ নিতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইন অনুযায়ী ১৬ বছরের একজন কিশোরকে দিয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো স্পষ্টতই শিশুশ্রম ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এত বড় একটি অপরাধের পর একটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটলেও পুলিশ প্রশাসন কিংবা নিহতের পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে জোরালো কোনো আইনগত পদক্ষেপ কেন নিচ্ছে না—তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল ও স্থানীয় অধিকারকর্মীরা এই ঘটনার সুুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে জুবায়েরের মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হয় এবং জড়িতরা উপযুক্ত শাস্তি পায়।