শিরোনাম :
শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী শাশ্বত ৯২ বন্ধু ফোরামের উদ্যোগে ১ টাকায় পূজার বাজার ও বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হলেই দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে: ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সিলেটে সীমান্ত থেকে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) সিলেট’র স্বজন স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সিলেট ওসমানীনগরে ফের সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২ সিলেট মহানগর জমিয়তের মিছিল-সমাবেশ গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন, সম্পাদক কে.এম. লিমন সিলেটবাসী সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন-বাণিজ্যমন্ত্রী

শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

রিপোর্টার নামঃ
  • শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক ::: শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে সরকার কাজ করছে। অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহনে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শ্রমিকদের চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩৪তম পরিচালনা বোর্ড সভায় অনুমোদিত অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, এ সহায়তা শ্রমিকদের দুর্দিনে সরকারের পাশে থাকার প্রতীক। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকেরা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে এ সহায়তা পেতে পারেন। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মাধ্যমে আবেদন করলে যাচাইপ্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের ফলাফল ও যোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় বহনেও সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক এবং শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর দুপুরে সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) শ্রম পরিদর্শকদের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম পরিদর্শকদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। কলকারখানায় কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পরিদর্শন জোরদার করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কারখানার শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর রাখতে হবে। পরিদর্শনের সময় কোনো কারখানায় লাইসেন্সের ঘাটতি বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নজরে এলে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুর্ঘটনায় একজন দক্ষ শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ক্ষতি।

তিনি আরও বলেন, পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেওয়া হলে বা দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা করা হলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা বরদাশত করা হবে না।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি সময়োপযোগী শ্রম পরিদর্শন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ওলে জাস্টেনসেন ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ডিআইএফইর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain