শিরোনাম :
মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক উৎসব সম্পন্ন দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কবরেই ‘ঘরবাড়ি’ শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী শাশ্বত ৯২ বন্ধু ফোরামের উদ্যোগে ১ টাকায় পূজার বাজার ও বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হলেই দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে: ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সিলেটে সীমান্ত থেকে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) সিলেট’র স্বজন স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সিলেট ওসমানীনগরে ফের সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২ সিলেট মহানগর জমিয়তের মিছিল-সমাবেশ

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কবরেই ‘ঘরবাড়ি’

রিপোর্টার নামঃ
  • রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক ::: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঠ বাজার এলাকা। চারপাশে সারি সারি কবর। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ যেখানে কবরস্থানের পাশ দিয়ে হাঁটতেও ভয় পান, সেখানে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কবরের উপরেই বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তি। প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি কবরকে নিজের আশ্রয়স্থল বানিয়ে নিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময় ওই ব্যক্তি জগন্নাথপুর পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রাত কাটাতেন। নিরাশ্রয় অবস্থায় একপর্যায়ে আশ্রয়ের জন্য বেছে নেন কাঠ বাজার কবরস্থান। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। একটি কবরের উপরেই এখন তার থাকা-খাওয়া ও ঘুমানোর ব্যবস্থা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবরস্থান থেকে বাইরে বের হওয়ার সময়ও তিনি সতর্ক থাকেন। যাতে তাকে হঠাৎ দেখে কেউ ভয় না পান।

বিষয়টি নজরে আসার পর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যারিস্টার মরহুম আব্দুল মতিনের ছেলে মির্জা স্বপন আহমেদ ওই কবরের ওপর টিনের ছাউনি করে দেন। এতে রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পান ওই ব্যক্তি।

​এ বিষয়ে মির্জা স্বপন আহমেদ বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমার বাবা ব্যারিস্টার আব্দুল মতিনের কবরের উপরে বসবাস করছেন। মেঘ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি কবরের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে দিয়েছি। তিনি সবসময় এখানেই থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ তাকে দেখতে আসেন। তবে তিনি সবার হাত থেকে খাবার বা উপহার নেন না। কেবল নিজের ইচ্ছে হলেই নেন।

​মরহুম আব্দুল মতিনের স্বজনরা জানান, ‘তিনি একজন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ। কবরস্থানের কোনো ক্ষতি তিনি করেন না, তাই তাকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, ৩৫ বছর আগে মরহুম আব্দুল মতিনের বাড়ির সামনে তার কবরস্থান ও একটি তালগাছ ছিলো। সেই সময় মানুষের চলাফেরা ছিল না। তখন থেকে এই লোকটি এই জায়গায় বসবাস করে আসছে। অনেক বৃষ্টি ঝড় তুফানের সময়ও তিনি এখান থেকে যাননি। অনেকদিন পর আব্দুল মতিন এর ছেলে মির্জা স্বপন টিন দিয়ে উপরের ছাউনি দিয়ে দেন। তার মূল বাড়ি ময়মনসিংহে।

​কবরের উপরে বাস করা প্রসঙ্গে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘একদিন তো মরতেই হবে, তখন তো এই কবরই শেষ ঠিকানা। তাই কবরে ঘুমাতে আমার আর ভয় লাগে না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain