অনুসন্ধান ডেস্ক ::: সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছুঁয়েছে। আর গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে মারা গেছে ৩ শিশু। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে সিলেটের এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয় বলে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে এক বছর বয়সি আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে; নয় মাস বয়সি জিসান আহমেদ একই জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মকবুল হোসাইনের ছেলে এবং অপরজন তিন মাস ২৪ দিন বয়সি জায়ান হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে।
চিকিৎসকরা জানান, তারা অপুষ্টিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।
এদিকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে জানান হয়, সিলেটে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারানো ২০০ জনের মধ্যে দশজনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকিদের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের ১ হাজার ১১৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বেশিরভাগেরই টিকা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা, হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি মা ও শিশুর পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।