অনুসন্ধান নিউজ :: ইসরাইলের মুহুর্মুহু হামলায় প্রতিনিয়ত নিহত হচ্ছে গাজার শিশুরা। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর গাজার জাবালিয়াতে ৫০টির বেশি শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ইসরাইল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আলজাজিরা। এতে বলা হয়, গাজার একটি পোলিও টিকা কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
ডব্লিউএইচও-এর তথ্যানুসারে, মানবিক কথা বিবেচনা করে এসব টিকা কেন্দ্রগুলোতে হামলা থেকে বিরত থাকার কথা থাকলেও তাতে হামলা চালায় ইসরাইল। তাতে কমপক্ষে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল হামলায় ৫০ জনের বেশি শিশু নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইউনিসেফের নিন্দা জানিয়ে একে নির্বিচারে হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ক্যাথেরিন বলেছেন, জাবালিয়ায় ভ্যাকসিনেশন ক্লিনিক ও ইউনিসেফ স্টাফদের ওপর যে আক্রমণ তা নির্বিচারে হামলার গুরুতর পরিণতির উদাহরণ। তিনি ইসরাইলকে এসব হামলার তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে বলেছেন।
আনাদুলুর খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলের অব্যাহত আগ্রাসনের অংশ হিসেবে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর চারটি পৃথক হামলায় ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চালানো ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত আক্রমণের ফলে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। যাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য একটি প্রস্তাব পাস করা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩৪১ জন ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি।
গাজার পাশাপাশি লেবাননেও ভয়াবহ হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইল। এ পর্যন্ত ইসরাইলের বোমার আঘাতে লেবাননে ২ হাজার ৯৬৮ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৩১৯ জন। গাজায় হামলার পর থেকেই হামাসের সমর্থনে ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।