গোয়াইনঘাট::: সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র জাফলংকে পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের দাবি পুনরায় জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে জাফলং পর্যটন সংলগ্ন এলাকাকে ঘিরে জনসংখ্যা, আয়তন, ভূমির প্রকৃতি, রাজস্ব সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দপ্তরকে দ্রুত এসব তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী এক প্রস্তাবে জাফলং ও জৈন্তাপুরকে পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। প্রস্তাবে তিনি উল্লেখ করেন, জাফলং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিবছর লক্ষ্য লক্ষ্য পর্যটক আকর্ষণ করে। কিন্তু কাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধার ঘাটতির কারণে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদানে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, পৌরসভা গঠিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ন, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে করে পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাফলং এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ, পাথর উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় একটি কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাফলংকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হলে এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার পথ সুগম করবে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও তথ্য বিশ্লেষণ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এদিকে জাফলংকে পৌরসভায় রূপান্তরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট তরুণ প্রজন্ম, ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত সচেতন নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিরা। তারা এটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জাফলং দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতি বছর ঈদ, শীত মৌসুম ও বিভিন্ন ছুটিতে এখানে কয়েক লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, জাফলং এলাকায় পর্যটন খাতকে ঘিরে বছরে আনুমানিক ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেনদেন হয়ে থাকে।
হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহন, নৌকা, খাদ্য ব্যবসা, গাইড সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ প্রবাহিত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরমোহাম্মদের মতে, পৌরসভা গঠন হলে এই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জাফলং একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরীতে রূপ নেবে। নাগরিক সেবা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য পরিবর্তন আসবে।