শিরোনাম :
চার সন্তান বিদেশে, নিজ ঘরে গৃহকর্মীসহ ব্যবসায়ী দম্পতি খুন কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মানববন্ধন বৃহত্তর মদীনা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির শপথ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক প্যারিসে ‘নজরুলের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনার মুসলিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃশ্রেণী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ফল প্রকাশের আগেরদিন মৃত্যু, সেই রেজা এসএসসিতে পেয়েছে ৪.১১ পর্তুগালে বিশ্বনাথবাসীর বর্ণাঢ্য প্রীতিসন্ধ্যা ও নৈশভোজ আফরোজ পলিমারের কর্মীদের নিয়ে আনন্দঘন আয়োজন, সম্মাননা পেলেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা ফের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পিকআপ ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে -নিহত-১

চার সন্তান বিদেশে, নিজ ঘরে গৃহকর্মীসহ ব্যবসায়ী দম্পতি খুন

রিপোর্টার নামঃ
  • বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক ::: সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকা। ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে বাস করেন ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আব্দুস আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬)। সাথে ছিলেন গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।

এই বৃদ্ধ দম্পতির চার সন্তানই দেশের বাইরে থাকেন। দুজন ইংল্যান্ড ও দুজন আমেরিকা। সিলেটের নিজেদের বাসায় কেবল স্বামী-স্ত্রী থাকনে। সাথে এক গৃহকর্মী।

বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসাটির দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা ত্রিপল নাইনে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতি ও গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করে।

কেন এই দম্পত্তি খুন হলেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

নিহত দম্পত্তির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরে বাসায় মা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সাথে এক কাজের মেয়ে থাকতো। সকাল ৯টার দিকও তাদের সাথে আলাপ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ৯টার পর তাদের হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামির আমেরিকার ভিসা রয়েছে। কিন্তু মামা দেশের বাইরে যেতে চাননি। তাই দেশেই ছিলেন তারা।

এই দম্পত্তির আরেক নারী আত্মীয় বলেন, আমার মামা শা্বশুর ( আব্দুস সাত্তার) হাউজিং, আইপিসহ অনেক ব্যবসা ছিলো। তার কোন শত্রু ছিলো না। ৯০ বছরের এই লোকটাকে কেন খুন করা হলো?

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেও যদি ঘরের ভেতরে খুন হতে হয়, তাহলে আজকে আমাদের নিরপত্তা কোথায়?

রায়নগর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আব্দুস সাত্তার আমাদের এলাকার মুরব্বী। মাঝে মাঝে এলাকার কারো কারো সাথে তার বিভেদ হতো। তবে তা গুরুতর কিছু নয়। তাকে কেউ হত্যা করবে এটা অভাবনীয়।

রায়নগরের পাশ্ববর্তী শিবগঞ্জ এলাকার বিএনপির কেন্দ্রিয় ক্ষুদ্র-উণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, আমার মনে হয়, সম্পত্তির কারণে বিষয়টি হয়ে থাকতে পারে। আমি যেটুকু তাদের পরিবারের কাছ থেকে শুনতে ও জানতে পেরেছি, মদনমোহন কলেজের সামনে এই পরিবারের একটি সম্পত্তি আছে। ওই সম্পত্তি নিয়ে কিছুটা বিরোধ আছে।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধসহ তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

হত্যার খবরে পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমারি খোলা আছে। স্বর্নসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে জেনেছি। চুরি ডাকাতির ঘটনা কী না তা তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোন কারণে হত্যা করা হয়েছে কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ আছে কী না তাও খতিয়ে দেখছি।

হত্যাকান্ডের ঘটনায়এই তিন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, সকালে ওই বাসার প্রতিবেশিরা আমাদের জানান, বাড়ির দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে এবং দরজা বন্ধ। এমন খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে যায়। দরজা খুলে তারা আমাদেরকে জানায়। পিবিআই ও সিআইডি ক্রাইমসিন নিয়ে যারা কাজ করেন তারাও চলে আসছে। একটা স্পেশাল টিম গঠন করে দিয়েছি তদন্ত করার জন্য। ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী সকালে চিৎকার চেঁচামেচি শুনেছেন। সে হিসেবে সকালে ঘটেছে। আমরা আরও তদন্ত করে জানাবো।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘তাদের কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে কি না, সেটিও আমরা দেখছি। তবে আপাতত ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিনে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’

ঘটনার খবর কীভাবে পুলিশ পেয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার একজন বাসিন্দা তাকে ফোন করে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দরজা বন্ধ থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে বলেও তাকে জানানো হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে।

এর আগে সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসার ভেতর থেকে বাবা, মা ও মেয়ের লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এদিকে রায়নগরে তিন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 Anushondhan News
Developed by Host for Domain