গোয়াইনঘাট ::: বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সিলেটের গোয়াইনঘাটের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোন ও জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতকে আরও নিরাপদ ও দর্শনার্থীবান্ধব করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়। তবে সরেজমিনে জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় এখনো নানা ঘাটতি দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এসব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের ভিড় বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেই তুলনায় এগোয়নি। জাফলংয়ে দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জিরো পয়েন্ট, লালমাটি ও নদীর তীরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। পর্যাপ্ত শৌচাগার, পার্কিং, বসার স্থান ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে।
জাফলংয়ের পর্যটন উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা ও ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। বিছনাকান্দিতে নৌযানে নিরাপত্তা ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। রাতারগুলে পর্যটকের চাপ বাড়লেও নির্ধারিত ধারণক্ষমতা, নৌযানে নিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল ওয়াচ টাওয়ারটিও পর্যটকদের কাজে আসছে না।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পর্যটকদের সুবিধায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে এসব বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি জানান, জাফলংয়ে একটি ভিউ পয়েন্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গাও নির্ধারণ করার কাজ চলছে। এরই মধ্যে কিছু বসার বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। রাতারগুলের অচল ওয়াচ টাওয়ারের স্থানে দৃষ্টিনন্দন নতুন ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করে পর্যটকদের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাতারগুল ও বিছনাকান্দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি এবং জরুরি ফোন নম্বর সচল না থাকার বিষয়ে ইউএনও বলেন, জনবল সংকটের কারণে জাফলং ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম সীমিত। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা দেখা যাবে। জাফলংয়ের নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে কয়েকটি মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জাফলংয়ে র্যালির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে প্লাস্টিক ও বর্জ্য অপসারণ করেন। পরে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ এবং ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী আমির হোসেন, আব্দুল রাজ্জাক ও সাব মিয়াসহ কয়েকজন জানান, পাথর ও বালি উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর পর্যটনই স্থানীয় মানুষের অন্যতম প্রধান জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু স্থায়ী অবকাঠামো, গাড়ি পার্কিং, স্বাস্থ্যকর শৌচাগার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পর্যটকদের আগ্রহ কমতে পারে। শুধু পর্যটন দিবসে র্যালি ও আশ্বাস নয়, ফাইলবন্দি উন্নয়ন পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান তারা।
প্রকৃতির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই পর্যটন গড়ে তুলতে এখন প্রয়োজন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকসেবার মানোন্নয়ন। পর্যটন দিবসে দেওয়া নতুন উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।